ভারত চলতি মৌসুমে অনুমোদিত ১০ লাখ টন চিনি রফতানির ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করবে না। সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারত। বাজারে চিনির পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত আছে বলে সম্প্রতি ধারণা করেছিলেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ কারণে জানুয়ারিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমোদন দিয়েছিল দেশটি। তবে পরবর্তী সময়ে শিল্প সংস্থাগুলো চলতি বছরের জন্য চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস কমায়। এতে সরবরাহ সংকট ও রফতানির ওপর সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও ইথানল উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই সরকার মিলগুলোকে চিনি রফতানির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এক সূত্র বলেন, ‘রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো কারণ নেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের কাছে চলতি ও আগামী বছরের জন্য পর্যাপ্ত মজুদ থাকবে।’
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ভারতে মোট চিনি উৎপাদন হতে পারে ২ কোটি ৬৪ লাখ টন। ভারতে এ সময় অভ্যন্তরীণ চাহিদা থাকতে পারে ২ কোটি ৮০ লাখ টন।
তবে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর মৌসুম শুরুর সময় দেশটিতে ৮০ লাখ টন চিনির মজুদ ছিল।
সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ৫৪ লাখ টন চিনির সমাপনী মজুদ নিয়ে ভারত আগামী মৌসুম শুরু করবে। এটি দুই মাসেরও বেশি সময়ের জন্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট হবে।
অন্য এক সূত্র জানায়, ভারত সরকার মার্চে মিলগুলোকে ২৩ লাখ টন চিনি বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। তবে এর পুরোটাই সরবরাহ করা হবে না। এ প্রবণতা মূলত বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
উল্লেখ্য, ভারতে অক্টোবরে আখ মাড়াই শুরু হয়। নভেম্বরের শেষ নাগাদ চিনি উৎপাদন বাড়তে থাকে। ফলে এ সময় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ে। এর আগে গত বছর বাড়তি উৎপাদনের কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে যায়। ফলে মিলগুলোর পক্ষ থেকে আখচাষীদের অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হয়।
চিনি রাজনৈতিকভাবে একটি সংবেদনশীল পণ্য। ভারত সরকার খাতটিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। সরকার মিলগুলোর জন্য আখের মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি প্রতি মাসে কতটুকু চিনি খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে, সেটিও ঠিক করে দেয়।